দেশ 

অনুপ্রবেশের চেয়ে জনবিন্যাসের বদল জাতীয় সুরক্ষায় বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে আরএসএস-এর শতবর্ষ অনুষ্ঠানে মন্তব্য প্রধানমন্ত্রীর, নিশানায় কে?

শেয়ার করুন

বাংলার জনরব ডেস্ক : বিহার নির্বাচনের আগে আবারো হিন্দু মুসলমান বিভেদ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এস আই আর নিয়ে রাহুল গান্ধীরা যখন মাঠে ময়দানে নেমে আন্দোলন শুরু করেছেন ঠিক সেই সময় বিহারে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছিলেন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার থেকে নাম বাতিলের জন্যই এই এসআইআর করা হচ্ছে। রাহুল গান্ধীর এস আই আর এর বিরোধিতা করে প্রকৃতপক্ষে অনুপ্রবেশকারীদের মদদ দিচ্ছেন তাদেরকে সাহস দিচ্ছেন। তারই আন্দোলন অনুপ্রবেশকারীদের ভোটাধিকার রক্ষার আন্দোলন বলে মন্তব্য করেছিলেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ।

কিন্তু এস আই আর এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করার পর দেখা গেল এখনো পর্যন্ত একটি বিদেশি নামও সামনে আনতে পারেনি নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিহারের ভোটারদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর কমিশনের পক্ষ থেকে যে প্রেস বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে সেখানে কোথাও বলা হয়নি যে একজনও বিদেশি নাগরিক বিহারের ভোটার ছিলেন তার নাম কেটে দেয়া হয়েছে। বরং ভোটার তালিকার থেকে নাম বাদ যাওয়ার কারণ হিসাবে নির্বাচন কমিশনের প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, কেউ জায়গা বদল করেছেন, কারো একাধিক জায়গায় ভোট ছিল আবার কেউ মারা গেছেন এই কারণে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ গেছে। কোথাও বলা হয়নি যে অনুপ্রবেশকারী বলে কেউ ছিলেন বা বিদেশি নাগরিক ছিলেন যার নাম বাদ গেছে।

Advertisement

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বিহারের চূড়ান্ত ভোটার তালিকা সামনে আসার পর মুখ লুকোনার জায়গা পাচ্ছেনা বিজেপির নেতারা। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রশ্নের মুখে পড়ে এবার মানুষের কাছে অন্য একটি তথ্য নিয়ে হাজির হয়েছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। গতকাল দিল্লির আম্বেদকার ভবনে আরএসএসের শত বর্ষ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নরেন্দ্র মোদী বলেছেন অনুপ্রবেশ নয় এখন দেশের কাছে সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে জনবিন্যাস। তাঁর মতে বর্তমান ভারতের ঐক্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো জনবিন্যাসের পরিবর্তন।

তাঁর কথায়, বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যসাধনের আদর্শ ভারতের আত্মায় রয়েছে। কিন্তু জাতপাত, ভাষা, আঞ্চলিকতা, উগ্রপন্থার দ্বারা যে বিভেদ তৈরি হয় তা ভারতকে দুর্বল করে দেবে। প্রসঙ্গত, জনবিন্যাস বদল নিয়ে স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও সুর চড়িয়েছিলেন মোদি।

রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের শতবর্ষ উপলক্ষে বুধবার নয়া ডাক টিকিট ও মুদ্রা প্রকাশ করেন মোদি। দিল্লিতে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও আরএসএস শীর্ষকর্তাদের উপস্থিতিতে এই অনুষ্ঠান হয়। সেখানেই মোদি বলেন, “আমাদের জনবিন্যাস বদলাতে ষড়যন্ত্র চলছে। অনুপ্রবেশের কারণে আমাদের জাতীয় সুরক্ষা যতখানি বিপজ্জনক, বর্তমানে তার চেয়েও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে জনবিন্যাসের বদল। ফলে বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের আদর্শও নষ্ট হচ্ছে।” তবে প্রধানমন্ত্রীর কথায়, এই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করেছে তাঁর সরকার।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও মোদি বলেছিলেন, “রীতিমতো ষড়যন্ত্র করে ভারতের জনবিন্যাস বদলে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।” আর তাতে অতীতের সরকারগুলিরও যে ভূমিকা রয়েছে, কৌশলে সে অভিযোগও করতে শোনা গিয়েছে মোদিকে। বিহারে বিশেষ নিবিড় সমীক্ষাকে (এসআইআর) কেন্দ্র করে সম্প্রতি উত্তাল হয়েছে জাতীয় রাজনীতি। এসআইআরের সপক্ষে বিজেপির যুক্তি, ভোটার তালিকায় বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীরা রয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের মতো রাজ্যে। তাদের খুঁজে বের করতেই এই প্রক্রিয়া।

জনবিন্যাস বদলের জেরে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য তৈরি হয়েছে বড়সড় চ্যালেঞ্জ, এমনটা স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও বলেছিলেন মোদি। তাই ‘দেশ বাঁচাতে’ ‘ভিশন ডেমোগ্রাফি’ মিশনের ঘোষণা করেছিলেন। জনবিন্যাস বদলানোর এই ষড়যন্ত্র রুখে দিতে সরকার বদ্ধপরিকর, দাবি করেছিলেন মোদি। এবার আরএসএসের মঞ্চেও জনবিন্যাসের বদল নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ধরনের জনবিন্যাস তত্ত্ব সামনে আসার পর দেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের কাছে একটা বড় সংকেত যাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাহলে কি এদেশের সংখ্যালঘু মুসলমানদের অবস্থা খানিকটা গাজার মত হতে চলেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজেই যখন বলছেন জনবিন্যাস নাকি দেশের ঐক্যের পক্ষে বিপদজনক সেখানে সিদুরে মেঘ দেখছে ভারতের মুসলিম সমাজ। তাহলে এই বেশ কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রদেশের বাজার থেকে মুসলিম ব্যবসায়ীদের তুলে দেওয়া উত্তরপ্রদেশে মুসলিমদের ধরে ধরে মারধর করা মুসলিমদের মসজিদ দরকার নিচে শিব মন্দির খুঁজে বের করা কিংবা। অসমে মুসলিম বাসিন্দাদের জোর করে উচ্ছেদের মত ঘটনা ঘটছে এর বিচার কি পাবে না দেশের বঞ্চিত সংখ্যালঘু সমাজ। দেশের প্রথম সারির প্রশাসকের মন মুখে যখন জনবিন্যাসের তত্ত্ব সামনে এসে যায় তখন অবশ্যই আতঙ্কের মধ্যে দিন যাপন করতে থাকে এ দেশের মুসলিম সমাজ।


শেয়ার করুন

সম্পর্কিত নিবন্ধ